ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির ঘটনায় একের পর এক ধাক্কা সামলাতে হলেও নিজের অবস্থানে অনড় ও আক্রমণাত্মক রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের ৮০ জন বিধায়কের বড় অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা উপদল গঠন এবং লোকসভা এমপিরা তৃতীয় আরেকটি ব্লক তৈরি করার পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন মমতা। দলের ভাঙন আর ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস কে’ তা নিয়ে টানাটানির মাঝেই তিনি বলেছেন, আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে।
শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী নেতাদের ‘‘বিশ্বাসঘাতক’’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মমতা। তবে নিজের চেনা ভঙ্গিতেই তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তার অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে মমতা তার দলের বিদ্রোহীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না। আপনারা যদি আমাকে থামাতে চান, তাহলে আমাকে মেরে ফেলতে হবে।’’
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী শনিবার আরেকটি বড় ধাক্কা খেয়েছেন; এদিন তার প্রতি এখনও অনুগত থাকা দলের হাতেগোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতার অন্যতম এবং তৃণমূলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন। এই বিধায়কও শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন উপদলে যোগ দিয়েছেন। ঋতব্রত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং তার সমর্থকরা শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনের দখল নিয়েছেন।
চন্দ্রিমার দলত্যাগের বিষয়ে মমতা বলেন, ‘‘চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ পদত্যাগ করেছেন। তিনি আগেই আমাকে সার্বিক পরিস্থিতি এবং তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। কারণ তার ছেলে আগেই তৃণমূল-বিরোধী একটি শিবিরের হাত ধরেছিল।’’
তবে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাকে ‘পরামর্শক’ পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি কখনোই তাদের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। মমতা বলেন, চন্দ্রিমা যা চেয়েছেন তা করার স্বাধীনতা তার আছে। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে হাত মেলাব না।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী বলেন, চাপের মুখে পড়েই বিদ্রোহীরা দল ছেড়েছেন। কিন্তু আমি বিজেপির সামনে মাথা নত করব না এবং আমার দলও কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
বিদ্রোহী নেতাদের দলীয় কার্যালয় দখল করার বিষয়ে মমতা বলেন, ‘‘যারা গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ করেছেন, তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আমরা ওই অফিসটি ভাড়া নিয়েছিলাম। ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এটি আমাদের ভাড়া নেওয়া ছিল। একজন ব্যক্তি দল ছেড়ে চলে যেতে পারেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, পুরো প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। এটি দলের সম্পত্তি। আমি চাইলেই এটি দখল করে নিতে পারি না। মা, মাটি, মানুষের সম্পত্তি কেউ জোর করে কেড়ে নিতে পারে না।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্টকে উৎখাত করে ২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। এবারের নির্বাচনে বিজেপির কাছে হেরে যাওয়া সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তার দলের আদর্শ পুরোপুরি ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি) বিরুদ্ধে।
‘‘দলের এই প্রতীক আমার দেওয়া। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আপনাদের মনোনয়নে স্বাক্ষরকারীও ছিলাম আমি। নির্বাচনের মাত্র দুই মাসের মধ্যে আপনারা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতক হয়ে উঠলেন? সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। আপনারা এখন বিজেপির সঙ্গে আছেন, যা এভাবে চলতে পারে না। কারণ তৃণমূলের আদর্শই হলো বিজেপি-বিরোধী।’’
সূত্র: এনডিটিভি
খুলনা গেজেট/এএজে

